Slideshows

http://www.bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/04/images/stories/2015/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ১৯ আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

বাপ্ নিউজ : বহুল আলোচিত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ১৯ আসামি এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তবে তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ রয়েছে। এই হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বিচারকাজ চলছে পুুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার-সংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে, ঢাকার এক নম্বর দ্রুত  বিচার ট্রাইব্যুনালে। বর্তমানে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি চলছে। ২২ ও ২৩ আগষ্ট  এই শুনানি শেষ হবে। এর পর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মামলায়  রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী পিপি  সৈয়দ রেজাউর রহমান । তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরেই মামলার বিচার কাজ নিষ্পত্তি হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ইতিহাসের ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী আগামীকাল সোমবার। এই মামলা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পলাতক আসামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজনকে ডিপোর্ট করা হচ্ছে। আশা করি আমরা তাকে দ্রুত দেশে ফেরত আনতে পারবো। মাওলানা তাজউদ্দিনকে কী না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকজনেরই অবস্থান শনাক্ত হয়েছে। তাজউদ্দিন সাউথ আফ্রিকায় রয়েছে।

পিপি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, মামলাটিতে মোট ৪০৮ জন তালিকাভুক্ত সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ মে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ। পিপি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য যেসব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ  করা  প্রয়োজন শুধু সেসব সাক্ষীর সাক্ষ্যই গ্রহণ করেছে।

পলাতক আসামি যারা: পলাতক ১৯ আসামির মধ্যে ৪ জনের নামে রেড নোটিশ রয়েছে ইন্টারপোলের ডাটাবেজে। এরা হলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গ্রেফতারকৃত আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও বাবু ওরফে রাতুল বাবু, বিএনপি নেতা  হারিছ চৌধুরী ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তবে এ তালিকায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম থাকলেও গত বছর মার্চ মাসে ইন্টারপোলের ডাটাবেজ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

১৯ আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে



পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (এনসিবি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন,  পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে পলাতক আসামিদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। তাকে  দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পলাতক ১৯ আসামির মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে,  বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মধ্যপ্রাচ্যে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ কলকাতায়, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোরসালীন ও তার ভাই মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের একটি কারাগারে এবং মওলানা তাজুল ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন।  জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মওলানা আবু বর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মওলানা লিটন ওরফ জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ডিএমপি’র তত্কালীন ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) ও ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ)  ওবায়দুর রহমান এবং খান সৈয়দ হাসানও বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা  হারিছ চৌধুরীর অবস্থান জানা যায়নি।

২২ আসামি কারাগারে : মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ জানান, চার্জশিটে মোট আসামি ৫২ জন। তাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জন রয়েছেন কারাগারে। জামিনে রয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ ৮ জন। অপর দিকে অন্য মামলায় তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর  হয়েছে। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুল। বাকি ১৯ জন পলাতক রয়েছেন।

পেছনের কথা: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের  সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তত্কালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। এ ঘটনায় তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা অল্পের জন্য রক্ষা পান। এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানার (বর্তমানে পল্টন থানা) তত্কালীন এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। এরপর মামলাটির তদন্ত ন্যস্ত হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি)। কিন্তু ডিবির তদন্ত শুরুর আগেই আবার মামলাটির তদন্ত যায় সিআইডিতে। এক সময় মামলা তদন্ত থেমে যায়। পরে ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। আর ২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি)  আব্দুল কাহার আকন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি অভিযোগপত্র দেন।