Slideshows

http://www.bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/04/images/stories/2015/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার কতদূর?

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ভয়াবহ স্মৃতি বিজড়িত ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে হতে পারত বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ঘাতকদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী। এছাড়া আহত হয়েছেন দলটির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী। যারা এখনও গ্রেনেডের ভয়ংকর যন্ত্রণাকর স্প্রিন্টার শরীরে বহন করে জীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। মৃত্যুর আগে তাদের একটাই আকুতি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার কতদূর?

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেসময়ের বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা। অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে বক্তব্য শেষ করার সাথে সাথেই শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড ছোড়া হয়। 

উপর্যুপরি ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সমাবেশস্থল পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। এই হামলায় আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শত শত নেতাকর্মী আহত হন। সেসময় মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে দলীয় সভাপতিকে জীবিত উদ্ধার করে তৎকালীন বাসভবন তৎকালীন বাসভবন সুধা সদনে নিয়ে যেতে পারলেও মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। গ্রেনেডের বিস্ফোরণের বিকট শব্দে শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পুলিশের তদন্তের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। পরে মামলাটি যায় সিআইডিতে। ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। মামলাটি তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন।

Picture

অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট আবু তাহের, মুফতি হান্নান ও আহসান উল্লাহ ওরফে কাজল মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাহের বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২১ আগস্ট (২০০৪) শেখ হাসিনার জনসভায় হামলা করা হবে। এ নিয়ে উপমন্ত্রী (তৎকালীন) আবদুস সালাম পিন্টুর সঙ্গেও কথা হয়েছে। এরপর আবু তাহের, মুফতি হান্নান ও কাজল ধানমন্ডির লেকপাড়ে উপমন্ত্রী পিন্টুর সরকারি বাসভবনে যান। সেখানে পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, তাহের, হান্নান ও কাজল পরিকল্পনা নিয়ে আরেক দফা আলোচনা করেন। ১৯ আগস্ট মাওলানা তাহের, কাজল, জান্দাল ও আবদুস সালাম পিন্টু মিরপুর ১ নম্বর পানির ট্যাংকের কাছে মসজিদ-এ আকবর কমপ্লেক্সে আবার বৈঠক করেন। পিন্টু তাদের পরদিন তার বাসায় যেতে বলেন। ২০ আগস্ট বেলা ১১টায় জান্দাল ও কাজল ধানমন্ডিতে পিন্টুর বাসায় যান। তাদের ১৫টি গ্রেনেড দেন মাওলানা তাজউদ্দিন। পরে তদন্তে এসেছে, এসব আর্জেস গ্রেনেড এসেছে পাকিস্তান থেকে।

সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, চার্জশিটে অভিযুক্ত ৫২ জনের মধ্যে ১৯ জন পলাতক, ৮ জন জামিনে রয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসি হয়। মামলার আরেক আসামি মুফতি হান্নানের ফাঁসি হয়েছে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায়।

মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ জামিনে রয়েছেন।

পলাতকদের মধ্যে তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ মধ্যপ্রাচ্যে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ কলকাতা, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোরসালীন ও তার ভাই মহিবুল মুত্তাকিন ভারতের একটি কারগারে এবং মওলানা তাজুল ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মওলানা আবু বর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও মওলানা লিটন ওরফ জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ডিএমপি’র তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) ও ডেপুটি কমিমনার (দক্ষিণ) মো. ওবায়দুর রহমান এবং খান সৈয়দ হাসানও বিদেশে অবস্থান করছে। তবে আসামি হারিছ চৌধুরীর (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈকিত উপদেষ্টা) অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল আরও জানান, স্পর্শকাতর ও আলোচিত এ মামলায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ সাক্ষিদের জেরা করেছে।

গ্রেনেড হামলায় যারা নিহত হয়েছিলেন- আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী মাহাবুব রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম আদা চাচা, মহানগর মহিলা আ.লীগের (দক্ষিণ) কর্মী সুফিয়া বেগম, ১৫ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মমতাজ, মাদারীপুর যুবলীগের নেতা লিটন মুন্সী, ব্যবসায়ী রতন সিকদার, ঢাকার ৩০ নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন মৃধা,  যুবলীগের সহসম্পাদক বেলাল হোসেন,  যুবলীগের কর্মী আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী,  যুবলীগের নেতা আতিক সরদার,  শ্রমিক লীগের কর্মী নাসিরউদ্দিন সরদার, মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজিয়া বেগম, ঢাকার বালুঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের কর্মী ইছহাক মিয়া, শামসুদ্দিন, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী, মমিন আলী।     

এদিকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নৃশংস ও ভয়বাহ এই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চলতি বছর ২০১৭-এ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুয়ায়ী আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য পেশ করা হয়। এরপর আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 

এ মামলার বিচার কার্যক্রম নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘গত ৩০ মে এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বর্তমানে আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।’

যে ১৯ জন আসামি বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

বিচারকার্য অন্যদিকে প্রবাহে বিএনপি সরকারের অপচেষ্টা 

গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, হামলার পরের দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। পরে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পেলে তা অন্যদিকে প্রবাহের চেষ্টা করে। তারা শৈবাল সাহা পার্থ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুরো ঘটনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে বিএবপি সরকার। প্রায় দেড় মাস পরে কমিশন ১৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, এই হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত।

এরপর ঘটনার ১০ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কেশার পাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের কালি মন্দির সংলগ্ন রাজা মিয়ার চা দোকান থেকে জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সে জবানবন্দিতে প্রধান কুশীলবদের নাম না আসায় দেশজুড়ে শুরু হয় নিন্দার ঝড়। গণমাধ্যম এটিকে ‘জজ মিয়া নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে। ২০০৮ সালে তাকে আসামির  তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। পরে আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া। এই গল্প সাজানোর ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্পিন্টারে ক্ষতবিক্ষত শরীরে আমৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।