Slideshows

http://www.bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/04/images/stories/2015/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

এ তুফান ভারি দিতে হবে পাড়ি নিতে হবে তরী পার........... শেখ আখতার উল ইসলাম

সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭

সম্প্রতি  সংবিধানের ষোঢ়ষ সংশোধনী বাতিল করে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর মাননীয় প্রধান বিচার পতি সহ আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিদের রায় ও মতামত নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আজ তুফান বয়ে চলেছে। বিচার বিভাগ তথা জাতীয় জীবনে এ রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা নিয়ে আজ এগিয়ে এসেছে। দেশ ও জাতির প্রতিটি ক্রান্তি লগ্নে জাতির বিবেক আইনজীবী সহ বিচার বিভাগ এগিয়ে এসেছে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে। দেশের মানুষের মাঝে  বর্তমানে  যে হতাশা আর বেদনা বিরাজ করছে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে দীর্ঘ এই রায় দেশ ও জাতিকে আগামী দিনের পথ নির্দেশনা দিবে। চরম হতাশায় নিমজ্জিত দেশ ও জাতিকে এক নতুন আশার আলো দেখাবে। অহেতুক বিতর্ক না করে তাদের এ মূল্যবান মতামত ও পর্যবেক্ষন কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদ আর নীতি নির্ধারকেরা তাদের কর্মসূচি প্রণয়ন করে দেশ ও জাতিকে  এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। বিশেষ প্রযোজনে তাদের রায় ও মতামতের কোন অংশের পরিবর্তন-পরিমার্জন করতে চাইলে রিভিউ আবেদন করে তা সংশোধন  করা যেতে পারে। কিন্তু এই রায় নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার কোন ভাবেই কাম্য নয়।দল বাজী আর দল কানা কিছু লোক ব্যাক্তি ও গোষ্টি সার্থে যে ভাবে অযাচিত-অহেতুক মন্তব্য করে চলেছেন তা জাতির জন্য কোন শুভ ফল বয়ে আনবেনা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় যাওয়ার ও ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য নিরন্তর এক প্রতিযোগিতা চলছে। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, লাঠি, গুলি , টিয়ারগ্যাস আর ক্ষমতার দ্বন্ধে ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে আজ বাংলাদেশ। প্রায় প্রতিদিনই একটা না একটা অঘঠন ঘঠেই চলছে। মসনদের অন্ধ মোহ, লোভ লালসা আর প্রতিহিংসার আগুনে আজ জ্বলছে বাংলাদেশ। পুড়ছে সম্পদ,  মরছে মানুষ । এক অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। দেশের সাধারন নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ক্ষমতার দ্বন্ধ ততই বাড়ছে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য আর ক্ষমতাহীনরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। গণতন্ত্রের নামে তারা চালু করেছে, এক অদ্ভূৎ- উদ্ভট পরিবারতন্ত্র। মধ্যযুগীয় রাজা-রাণীর আচরনে তারা  হয়ে পড়েছে অভ্যস্থ। নিজেদের দুর্নীতিবাজ- দুর্বল উত্তরাধিকারকে মসনদে বসানোর স্বপ্নে তারা আজ বিভোর। পূর্বসূরির গুণকীর্তন করে মসনদ দখল রাখার এক অদ্ভূৎ পায়তারায় তারা লিপ্ত হয়ে আছে। মাঝে মাঝে অলিক স্বপ্নের ফুল ঝুরি ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করছে। তাদের চার পাশ ঘিরে রয়েছে মৌ-লোভী, চামচা, চাটুকার , মোসাহেব। আর এ ভাবেই চামচা -চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে এক পুতুল  ও এক পুতুলের মা দেশটাকে নিয়ে পুতুল খেলা খেলছে। বাংলাদেশে আজ রাজনীতির নামে চলছে দল বাজী আর অপরাজনীতি, চলছে শোষনের গণতন্ত্র আর ক্রীতদাসের আর্থনীতি।
 বাংলাদেশ যার জন্ম হয়েছিল এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে। এক দীর্ঘ সংগ্রাম আর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে। যে যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিল রাম, রহিম, জন, পল। যে যুদ্ধে ইজ্জত দিয়েছিল গীতা, সীতা, সখিনা, জরিনা। বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যে গ্রামে শহীদ মিনার নেই, নেই শহীদের কবর কিংবা বীরঙ্গনার আর্তনাদ। বাংলাদেশের এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে পাক হানাদার বাহিনীর ধ্বংশ যজ্ঞের চিহৃ নেই। সৌভাগ্য এ দেশের মানুষের যে লাওস, কম্বোডিয়া কিংবা ভিয়েৎনামের মত সুদীর্ঘ কোন যুদ্ধ তাদের করতে হয়নি। ভাগ্যবান বাঙ্গালী জাতি সে যুদ্ধে পেয়েছিল এক অসাধারন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সূদৃঢ় এক জাতীয় ঐক্য আর মহান আল্লাহর আশির্বাদ। যার ফলে আধুনিক মারনাস্ত্রে সু-সজ্জিত  পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট শক্তিশালী একটি সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ খালি হাতে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে পরাজিত করে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্টা লাভ করেছিল স্বাধীন- সার্বভৌম- অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ, বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জন্মের পিছনে যেমন রয়েছে এক রক্তাক্ত করুণ ইতিহাস, তেমনি রয়েছে এক সুদীর্ঘ আন্দোলন -সংগ্রামের সফল ইতিহাস। যে আন্দোলন- সংগ্রামের মুল লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য ছিল শোষন- বঞ্চনাহীন এক সূখি- সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্টার স্বপ্ন । যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিল জাতির বীর শহীদেরা , যে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক আর স্বাধীনতার ঘোষক। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রতিটি বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে সূখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। মানুষে মানুষে কোন ভেদা ভেদ থাকবেনা। থাকবেনা হিংসা, বিদ্ধেষ, মারা মারি, কাটা কাটি। থাকবেনা অভাব- অনটন। তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন শোষন-বঞ্চনাহীন এক সূখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। তারা উভয়েই ছিলেন পরস্পরের সম্পূরক, পরস্পরের পরিপূরক।  তাদের জীবৎদ্বশায় তারা কখনও কল্পনা ও করেননি যে তাদের করুণ পরিনতির পর তাদের দুর্বল উত্তরাধিকার এক দিন মসনদে আরোহন করে এ ভাবে তাদের স্বপ্নের সমাধি রচনা করবে। মহান স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠা ঐক্য বদ্ধ জাতি সত্বাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে পরস্পর বিপরিত দুটি ধারায় জাতিকে বিভাজিত করে তারা মূখো মূখি দাড় করিয়ে দিবে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিমযে অর্জিত রাষ্ট্রিয় মৌল নীতিমালা বিসর্জন দিয়ে তারা
 ব্যার্থ রাষ্ট্রের পথে দেশটাকে  নিয়ে যাবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রিয় মৌল নীতিমালা- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ বিসর্জন দিয়ে তারা বাংলাদেশে শোষনের গণতন্ত্র ও ক্রীতদাসের অর্থনীতি চালু করবে।            
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ গণতন্ত্রের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, শোষন-বঞ্চনাহীন সমাজব্যবস্থার জন্য যে দেশের মানুষের রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াই আর সংগ্রামের অতিত ইতিহাস। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলে ও সত্য যে সদ্য স্বাধীন দেশে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে গিয়ে  স্বাধীনতার বীর যোদ্ধারা একে অন্যের মূখো মূখি দাড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় আত্মহননের পালা, নৈস্বর্গে ভাঙ্গন। একাত্তরের রণাঙ্গনের সাথীরা একে অন্যের শত্রু হয়ে উঠেন। পিছন থেকে মদদ যোগায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি। সদ্য স্বাধীন , বিধ্বস্থ, ধ্বংশ স্তুপের মাঝে যখন জাতি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চলছে তখন আতুড় ঘরে তাকে ধ্বংশ করার প্রচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠে স্বাধীনতার পরাজিত রাজাকার আর তাদের দোসরেরা। দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনা লগ্নে, পচাত্তরের পনরই আগষ্ট তারা আঘাত হানে স্বাধীনতার সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ঘাঠিতে। নিষ্টুর-নির্মম ভাবে স্বপরিবারে তারা হত্যাকরে বাঙ্গালী জাতি রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ৩ রা নভেম্বর জেলের অভ্যন্তরে নিষ্টুর-নির্মমভাবে হত্যাকরে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতীয় চার নেতাকে। চক্রান্ত আর ষঢ়যন্ত্রের নীল নকশায় অত:পর তারা মুক্তিযুদ্ধাদের নিধন প্রক্রিয়া শুরু করে। অভ্যূত্থান আর পাল্টা অভ্যূত্থানের মাধ্যমে তারা বীর মুক্তিযুদ্ধা কর্ণেল খালেদ মোশাররফ, হুদা, হায়দারকে নির্মম ভাবে হত্যাকরে। ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহেরকে। শিখন্ডি বানিয়ে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াকে। ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে নিষ্টুর-নির্মম ভাবে তারা জিয়াকে ও খুন করে। চক্রান্ত আর ষঢ়যন্ত্রের নীল নকশায় জিয়া হত্যার আসামী করে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে স্বাধীনতা যুদ্ধের ১২ জন বীর সেনানীকে। ঢাকা থেকে ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মেজর মন্জুরকে। ক্ষমতার মসনদে অরোহন করে পাকিস্তান ফেরত সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্দ এরশাদ। নব্বইয়ের গণঅভ্যূহথানে এরশাদের পতনের পর সর্বশেষ তারা বেচে নেয় স্বাধীনতার দুই বীরের দুর্বল-দেউলিয়া উত্তরাধিকারকে।  
বাংলাদেশের সামনে আজ  এক বিরাট নতুন চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাস-দুনর্িিত-কালোটাকা-অস্ত্র আর মাদকের কাছে জিম্মী আজ গোটা দেশ বাসী। খুন-ধর্ষন-ঘুম-চুরি-ছিনতাই-রাহাজানী- বিচারবহির্ভূত হত্যা কান্ড আর জঙ্গীবাদের থাবায় জাতির অস্তিত্ব আজ সঙ্কটাপন্ন।পরস্পর বিপরিত দুই ধারায় বিভাজিত রাজনীতি আজ চরম দুর্বিত্তায়নের কবলে নিপতিত। রাজনীতির নামে দেশে চরম অরাজকতা বিস্তার লাভ করেছে। দেশ ও জাতির চরম এ ক্রান্তি লগ্নে জাতির বিবেক- সংবিধানের রক্ষক মাননীয় বিচারপতি বৃন্দের প্রদত্ত দিক নির্দেশনা সে চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় সহায়ক রূপে কাজ করতে পারে। সে জন্য জনগণের ম্যান্ডেট আর অদালতের নির্দেশ  এর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সকলকে নিয়ে পারস্পরিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে।প্রয়োজনে পঞদশ সংশোধনীতে রেখে দেওয়া রাষ্ট্র ধর্ম বাতিল করে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অর্জিত রাষ্ট্রিয় চার মৌলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ পূণ:প্রবর্তন করতে হবে। মধ্যযুগীয় ক্রীতদাসের ন্যায় দরিদ্রের রক্তে ভেজা শ্রম বিক্রি করে গড়ে উঠা অর্থনিিতর পরিবর্তে উন্নয়নের অর্থনীতি চালূ করতে হবে। শ্রমিকের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর রক্তে ভেজা অর্থ কেড়ে খাওয়া মধ্য সত্বভোগীদের হাত থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। শোষন-বঞ্চনাহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্টার জন্য অংশিদারিত্ব মুলক গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে। মসনদের অন্ধ মোহ আর লোভ লালসার কারনে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোন ধরনের ব্যার্থতা কিংবা আপোষকামিতা হবে আত্মহননের সামিল। আমাদের ভূলে , আমাদের হঠকারিতায় যদি এবার ও পদস্কলন ঘঠে , তবে তলিয়ে যাবে সমাজ, সভ্যতা ও দেশ।
শেখ আখতার উল ইসলাম
সভাপতি- বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি
কক্ষ নং ১৪১, সুপ্রীমকোর্ট বার ভবন,ঢাকা।