Slideshows

http://www.bostonbanglanews.com/index.php/images/stories/2015/April/05/04/images/stories/2015/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্রের খবর

নিউইয়র্কে ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা অনুষ্ঠান

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের ৪৭ তম  বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার খ্যাত ওলমস্টেড এভিনিউর এশিয়া ড্রাভিইং স্কুল পার্টি সেন্টারে গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ও বিজয় উৎসবের। বিন¤্র  শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর উৎসবমুখর পরিবেশে ক্রেষ্ট প্রদান ও গলায় লাল-সবুজের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান হয় বাংলাদেশের ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

Picture
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল’র প্রেসিডেন্ট  আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ এ ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে এবং ডা. নাহিদ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা  মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, মামুন’স টিউটরিয়ালের প্রিন্সিপাল মূলধারার ম্যাথ টিচার শেখ আল মামুন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক  রুহুল আমিন সিদ্দীকি ও সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ,  হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশনের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক  সোলায়মান আলী ও বাংলাদেশ কমিউনিটি অব নর্থ ব্রঙ্কসের সাধারণ সম্পাদক মনজুর হোসেন চৌধুরী জগলুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেন।

alt
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ এর জুডিশিয়াল ডেলিগেট রেক্সোনা মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুর, অয়েল কেয়ারের আনোয়ার হোসেন, বৃহত্তর কুমিলা সোসাইটি’র সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট খবির উদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মমতাজ উদ্দিন এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সুভঙ্কর গাঙ্গুলী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সংগীত পরিবেশন করেন আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিভিন্ন কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।পরে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন, আব্দুল হালিম মুন্সী, আবু কায়সার চিশতী, মুন্সী বশির উদ্দিন, মনির হোসেন, আবু মোহাম্মদ সাকিব রহমান, আজিজুল ইসলাম, আবদুল জলিল, এম এ কাশেম, হেদায়েত উল্লাহ খান ও ফজলুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া ম্যারাথনার রাশেদ মজুমদার, সিক্স হান্ড্রেড বুক রিডার খাদিজা ভূইয়া এবং নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৪৩ পুলিশ প্রিসেনক্টেকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

alt
সম্মাননা পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা আবেগ আপ্লুত কন্ঠে আয়োজনদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সুদুর প্রবাসেও মুক্তিযোদ্ধাদের এমন সম্মাননা জানানোর অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করার মত নয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বক্তব্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন আর কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান। আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তারা।
আইনজীবি মোহাম্মদ এন মজুমদার তার বক্তৃতায় বলেন, প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে বাংলাদেশের গৌরবজ্জ্বোল ইতিহাস। তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। ছড়িয়ে দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাদের সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তারাই এদেশের বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। বয়ে আনবে বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সম্মান।
মোহাম্মদ এন মজুমদার আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ জাতি ও দেশ হিসেবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী। ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে সন্ত্রাসকে। আতœঘাতি বিস্ফোরণকারি আকায়েত উল্লাহ ‘বাংলাদেশি অভিবাসী’ হলেও সে কিছুতেই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না। সে কেবলই একজন সন্ত্রাসী। তার দায় কমিউনিটি নিতে পারে না। এ সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী কমিউনিটি।

alt
অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অভিহিত করে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। এজন্য পুরো জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
বক্তারা নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ম্যানহাটানে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর জঘন্য বোমা হামলা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান। তারা আতœঘাতি বিস্ফোরণকারি আকায়েত উল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, সকলকে এসব নোংরামির বিরুদ্ধে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ধরণের সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডের মূল উৎপাটন করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ এ ইসলাম মামুন অনুষ্ঠানে আগত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী।


আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট-কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটদের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে গণবিরোধী কাজে প্রবৃত্তদের প্রশাসন থেকে হটিয়ে দিতে হবে : নিউইয়র্কে অ্যাসাল’র বার্ষিক কনভেনশনে বক্তারা

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:নিউইয়র্কে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার-অ্যাসাল’র বার্ষিক কনভেনশনে বক্তারা বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইউএস সিনেট ও কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটদের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে গণবিরোধী কাজে প্রবৃত্তদের প্রশাসন থেকে হটিয়ে দিতে হবে। আমেরিকার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মূলধারায় আরো জোরালো অবস্থানে নিতে হবে।

Picture

কোন মানুষই যাতে বৈষম্যের শিকার না হন সে বিষয়েও সোচ্চার হতে হবে সকলকে। তারা বলেন, বাংলাদেশীসহ সাউথ এশিয়ানরা যাতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হন সে লক্ষে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণেও উদ্যোমী হতে হবে। যারা সিটিজেনশিপ নিয়েছেন, তাদের সকলকে হতে হবে ভোটার।alt

’সাউথ এশিয়ানস ইন আমেরিকা- উই আর স্ট্রংগার টুগেদার’- এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে স্থানীয় সময় ৯ ডিসেম্বর শনিবার ম্যানহাটানের লোকাল ইউনিয়ন হলে বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাসাল’র দশম বার্ষিক কনভেনশন।যুক্তরাষ্ট্রে মূলধারায় দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশীয় ইমিগ্র্যান্টদের একমাত্র সংগঠন অ্যাসালের এ ব্যতিক্রমী মিলনমেলা শুরু হয় এদিন বিকেল প্রায় ৪টায় আর শেষ হয় রাত ১০ টায়।

alt

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এ কনভেনশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অ্যাসালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিসবাহ উদ্দিন। উদ্বোধনী ভাষনে মাফ মিসবাহ উদ্দিন অ্যাসালের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।কনভেনশনে বিগত বছরের কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অ্যাসালের ন্যাশনাল সেক্রেটারী এম করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু পার্টিগত ভাবেই নয়, সাউথ এশিয়ানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারাই কাজ করবে তাদের সমর্থন দিয়ে যাবে অ্যাসাল। তিনি এসময় অ্যাসালের ন্যাশনাল কমিটিসহ বিভিন্ন চ্যাপ্টারের কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টেনথ এন্যুয়েল কনভেনশন কমিটির চেয়ার ও অ্যাসালের লাইফ মেম্বার কৃষ রুদ্র।
অনুষ্ঠানে কী নোট স্পীকার ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি স্পীকার চার্ল ই হেস্টাই। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস দিনাপলি, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট ল্যাতিটিয়া টিশ জেম্স, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিনজার, নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট ১২ থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান ক্যারোলিন বি মেলোনী, নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট ৩ থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান থমাস সুয়াজি, কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এর প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১৯-এর সিনেটর রেক্সনী পারসউদ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ২০-এর সিনেটর জেসে হ্যামিলটন, অ্যাসেম্বলিম্যান (ব্রঙ্কস) মাইকেল এ ব্লেক, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৫১-এর অ্যাসেম্বলিম্যান ফেলিক্স ওটিজ, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৯-এর অ্যাসেম্বলিম্যান এলিসা এল হান্ডম্যান, অ্যাসেম্বলি অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৫৯-এর অ্যাসেম্বলিম্যান জেমিক উইলিয়ামস, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৪৩-এর অ্যাসেম্বলিওম্যান ডায়না সি রিচার্ডসন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৫৬-এর অ্যাসেম্বলিওম্যান ট্রিমানী রাইট, ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর কাউন্সিলম্যান রোরি ল্যান্সম্যান, ডিস্ট্রিক্ট ২৩-এর কাউন্সিলম্যান ব্যারি গডেনচিক প্রমুখ।alt

কনভেনশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেমিনার ও প্যানেল ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ‘দ্য ২০১৮ মিডটার্ম ইলেকশন-হোয়াট রোল উই প্লে’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নিউজার্সী’র প্রসপেক্টপার্ক ব্যুারো মেয়র মোহাম্মদ টি খায়রুল্লাহ, হোলসেল অ্যান্ড ডিপার্টম্যান্ট স্টোর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রিটেইল স্টুয়ার্ট এপিলবাম, কমিউনিকেশান ওয়ার্কার্স অব আমেরিকার লোকাল ১১৮০’র প্রেসিডেন্ট আর্থার চ্যালোটিজ, নিউইয়র্ক স্টেট এএফএল-সিআইও কনসটিটিউন্সি গ্রুপস ডাইরেক্টর ফারিদ মিসিলেন এবং অ্যাসাল- মিশিগান চ্যাপ্টারের পলিটিক্যাল ডিরেক্টও ইব্রাহিম আল জাহিম। এ প্যানেলে মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাসাল মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট মো. রাব্বি আলম।প্যানেল আলোচকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত নানা পদক্ষেপে দক্ষিণ এশিয়ানদের ইমিগ্রেশন ইস্যুসহ কমিউনিটির সার্বিক উন্নয়নে নানা পরামর্শ তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম ও ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী বক্তব্য এবং গৃহীত প্রদক্ষেপে ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব বক্তব্য এবং গৃহীত প্রদক্ষেপকে আমেরিকার মূল্যবোধ ও মানবাধিকার পরিপন্থী উল্লেখ করে তারা বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নই। ট্রাম্পের হিংসা, জাতি, বর্ণ ও ধর্মে বিভক্তির বিরুদ্ধে। তারা বলেন, ভয় পেলে চলবে না একে অন্যকে প্রটেক্ট করতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। alt

আগামী বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে গণবিরোধী কাজে প্রবৃত্তদের প্রশাসন থেকে হটিয়ে দিতে হবে।এছাড়া ‘দ্য চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড সিগনিফিকেন্স অব অর্গানাইজিং আওয়ার ইউথ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এনওয়াইসি চ্যাপ্টারের কোয়ালিশন অব ব্ল্যাক ট্রেড ইউনিয়নিস্ট চার্লস জেনকিনস, লেবার কাউন্সিল ফর ল্যাটিন আমেরিকান এডভান্সমেন্ট এনওয়াইসি চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট এডোয়ার্ড রোজারিও, গভর্ণস সিনিয়ার লীডারশীপ টীম এক্সিকিউটিভ চেম্বারের জেনিফার রাজকুমার ইএসকিউ, কুইন্স কাউন্টি ইয়াং ডেমোক্রেটস’র ভাইস প্রসিডেন্ট এন্টিনিও আলফান্সো, কাউন্সিলম্যান ডোনোভান রিসার্ডসের এক্সিকিউটিভ এসিসটেন্স মালিক স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১৯-এর সিনেটর জেমস স্যান্ডার্সের ইকোনমিক ডেভোলপমেন্ট ডাইরেক্টর ল্যাটিয়া ব্যাঞ্জামিন। মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাসাল’র ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েট পলিটিক্যাল ডিরেক্টর জামিলা এ উদ্দিন।alt

অসেমিনারে যুবকদের সুসংগঠিত করার উপায় ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশনামা পেশ করেন প্যানেলিস্টরা। নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণের দিক নির্দেশনার কথাও বলেন তারা।নুষ্ঠানে অ্যাসাল-এর প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ বলেন, আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ান শ্রমিকসহ ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১০ বছর ধরে নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসাল। তিনি মূলধারায় অ্যাসালের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অ্যাসালের প্ল্যাটফরম থেকে বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের তৃণমূল থেকে বিভিন্ন দাবি দাওয়া জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু নিজেদের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না।

alt

 নিজেদের অধিকার আদায়ে আরো বেশী সক্রিয় হতে হবে। প্রতিবেশীসহ ভিন্ন ভাষা-ভাষী, জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষের সাথেও মিশতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, সিটি এবং কাউন্টিতে গত ৭ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রায় প্রতিটিতেই সুফল এসেছে ডেমক্র্যাটদের।

alt

এই নির্বাচনে বেশ ক’টি এলাকায় বাংলাদেশীরাও ছিলেন। সদ্য সমাপ্ত এ নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের বিজয়ী করতে অ্যাসাল বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। আগামী বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ইউএস সিনেট ও কংগ্রেসে ডেমক্র্যাটদের বিপুল বিজয়ের জন্য কাজ করে যাবে অ্যাসাল। আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জোরালো ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। alt

তিনি অ্যাসালসহ বাংলাদেশীদের ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য নের্তৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকলের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

alt

কনভেনশনে বিভিন্ন বক্তারা তাদের বক্তব্যে অ্যাসালের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসাসহ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ানদের স্বার্থে অ্যাসাল-এর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে উৎসাহ প্রদান করেন। মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির অবস্থানকে আরও সুসংহত করার জন্য অ্যাসাল’র অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মুসলিম এবং ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে আশ্বস্ত করে তারা সবসময় ইমিগ্র্যান্টদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ানরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আগামীতে তারাই হবেন হবেন অনেক কিছুর নিয়ন্ত্রক শক্তি।

alt

অনেক কিছুই নির্ভর করবে তাদের সমর্থনের ওপর। আমেরিকার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মূলধারায় আরো জোরালো অবস্থান নিতে হবে। কোন মানুষই যাতে বৈষম্যের শিকার না হন সে বিষয়েও সোচ্চার হতে হবে। তারা বলেন, বিভিন্ন নির্বাচিত প্রতিনিধি-প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ কম থাকায় অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন ইমিগ্র্যান্টরা। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ থাকলে নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হওয়া যায়। বৈষম্যে থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়। সকলে মিলে বাংলাদেশীসহ সাউথ এশিয়ানদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পথ সুগম করতে হবে। যারা সিটিজেনশিপ নিয়েছেন, তাদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হবে।

alt

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নিউইয়র্ক স্টেট এএফএল-সিআইও সেক্রেটারী-ট্রেজারার এবং এনওয়াইসি চ্যাপ্টারের কোয়ালিশন অব ব্ল্যাক ট্রেড ইউনিয়নিস্টস প্রেসিডেন্ট টেরেন্স মেলভিন, এএফএসসিএমই ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল-৩৭ এবং লোকাল ১৫৪৯’র প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড রোডারিগাজ এবং অ্যাসালের ফাউন্ডিং ট্রেজারার আহমেদ শাকিরসহ মূলধারা ও অ্যাসাল’র কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে পাবলিক স্কয়ারি : স্পিক ইউর মাইন্ড -এ অ্যাসালের ব্রুকলীন চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার বক্তব্য রাখেন। alt

মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাসালের কুইন্স চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মো: সাবুল উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ড. পেরী পিঙ্কেল, অ্যাসাল এনজে সেক্রেটারি ছিটু প্যাটেল, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রফিক।

alt

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাসালের ন্যাশনাল করেসপন্ডেস সেক্রেটারী জেড মাতালান। কনভেনশন শুরুতে শপথ বাক্য পাঠ করান অ্যাসাল স্ট্যাটেন আইল্যান্ড চ্যাপ্টারের ইউথ কমিটির ফাতিন ইসতিয়াক। অভ্যর্থনায় ছিলেন রিসিপশান কমিটির চেয়ার ও অ্যাসালের স্ট্যাটেন আইল্যান্ড চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. নিথিয়া চ্যাটার্জি। রেজিস্ট্রেশানের দায়িত্বে ছিলেন কমিটির চেয়ার মোশাররফ চৌধুরী। অন্যান্য দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ রহমান, আনোয়ার উদ্দিন এবং অ্যাশলি রাজাকারুনাসহ অ্যাসাল এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।alt

দশম বার্ষিক কনভেনশন উপলক্ষে অ্যাসাল -ইজ অব দ্য কমিউনিটি অ্যান্ড ফর দ্য কমিউনিটি শিরোণামে তথ্য সমৃদ্ধ একটি বিশেষ জার্নাল প্রকাশ করা হয়।alt

কনভেনশনে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে নানা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য স্টেট ও সিটি গভর্ণমেন্ট এবং অ্যাসাল-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুনী জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এওয়ার্ড তুলে দেন অ্যাসালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন। এসময় অ্যাসালের ন্যাশনাল কমিটিসহ অ্যাসাল এর বিভিন্ন চ্যাপ্টারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।alt

অ্যাসালের এ অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজনীতিকরা অংশ নিয়ে অ্যাসালের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন। স্টেট ও সিটি গভর্ণমেন্টের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও মূলধারাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ অ্যাসালকে প্রক্লেমেশন ও সাইটেশন প্রদান করা হয়। alt

বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে এ অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজনীতিক, কংগ্রেসম্যান, নিউইয়র্ক স্টেট ও সিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অ্যাসাল-এর সদস্য, কমিউনিটি লিডারসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন = এক বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিকের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা ফটো সাংবাদিকদের একজন জুয়েল সামাদ তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু দু:সাহসিক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইরাক রণাঙ্গন থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার হোয়াইট হাউস, এশিয়ান সুনামি থেকে রিও অলিম্পিক- বহু বিচিত্র বিষয় কভার করেছেন।
বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেসব অভিজ্ঞতা।

এয়ার ফোর্স ওয়ান :
লস এঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে আকাশে উড়েছে এয়ার ফোর্স ওয়ান। পাঁচ ঘন্টার ফ্লাইট। লস এঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত দিন কেটেছে সবার। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন এক অনুষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নানা বিষয়ে প্রতিদিন চিঠি লেখেন অনেক মানুষ। নির্বাচিত কিছু পত্রলেখককে প্রেসিডেন্ট লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে। ছিল আরও নানা আনুষ্ঠানিকতা।

ফিরতি যাত্রায় এয়ারফোর্স ওয়ানের প্রেস কেবিনে সফরসঙ্গী সাংবাদিকরাও কিছুটা ক্লান্ত।
নানা কাজে ব্যস্ত কেউ কেউ। হঠাৎ কেবিনের দরোজা দিয়ে ঢুকলেন প্রেসিডেন্ট। এএফপির ফটো সাংবাদিক জুয়েল সামাদের জন্য সেটাই ছিল এয়ার ফোর্স ওয়ানের শেষ ফ্লাইট। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বশেষ সফর।

"আমার নতুন পোস্টিং হয়েছে নিউইয়র্কে। সেদিন আমার শেষ জার্নি এয়ার ফোর্স ওয়ানে। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে তাঁর স্টাফরা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই রীতি অনুযায়ী বিদায় জানাতে এসেছেন তিনি", বলছিলেন জুয়েল সামাদ।

"যেভাবে তিনি আমাকে বিদায় জানাতে আসলেন প্রেস কেবিনে, দ্যাট ওয়াজ ভেরি নাইস। আমি কিছুটা আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। উনি আমার সঙ্গে বেশ রসিকতাই করলেন। বললেন, নিউইয়র্কে কেন যাচ্ছো। ওখানে তো বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি। "

Picture

হোয়াইট হাউস প্রেস কোরের সদস্য হিসেবে প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে বিশ্বের বহু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ওবামার সফর-সঙ্গী ছিলেন জুয়েল সামাদ। ছিলেন বহু ঐতিহাসিক মূহুর্তের সাক্ষী। তবে এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক মধুর অন্তরঙ্গ মূহুর্তের স্মৃতিও আছে। এটি ছিল সেরকম একটা দিন।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সাংবাদিকদের জন্যও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার মতো ব্যাপার। সাংবাদিকরা যখন খ্যাতির শিখরে পৌঁছান, তখন সাধারণত 'প্রাইজড পোস্টিং' হিসেবে হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়। জুয়েল সামাদের জন্য সেখানে কাজ করার সুযোগটা এসে গিয়েছিল বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে।

বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাস পরের ঘটনা সেটি।

"তখন আমার পোস্টিং ইন্দোনেশিয়াতে। আমাদের এএফপি'র নর্থ আমেরিকার ডিরেক্টর, উনি আমাকে হোয়াইট হাউজে নিয়ে আসেন। উনি চাইছিলেন হোয়াইট হাউজ একটু ভিন্নভাবে কভার করতে। একজন ফ্রেশ, ইয়াং কোন ফটোগ্রাফারকে দিয়ে। আমেরিকার সঙ্গে রিলেটেড নয় এমন কাউকে দিয়ে। আমাকে উনি ওয়াশিংটনে নিয়ে আসলেন। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আমি ওবামা এডমিনিস্ট্রেশন কাভার করেছি। "

বারাক ওবামা ছিলেন হোয়াইট হাউসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আর জুয়েল সামাদ তার প্রেস কোরে ঠাঁই পাওয়া প্রথম কোন বাংলাদেশি সাংবাদিক।

এপি এএফপি, রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমস, শুধু এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ফটোসাংবাদিক থাকেন হোয়াইট হাউসে। এরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলের অংশ। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট যেখানেই যাবে, তার সঙ্গে থাকবেন এই চারজন। এরকম একটা বিরল সুযোগ পেয়ে জুয়েল সামাদ ছিলেন তাঁর ভাষায় 'সুপার একসাইটেড'।

"আমি কখনো ভাবিনি যে একদিন হোয়াইট হাউজ কভার করার সুযোগ আসবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাভেল করে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ হবে। প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবো এবং ট্রাভেল করতে পারবো। সত্যি কথা বলতে কি, এটা একটা প্রিভিলেজ। আমি যে সাড়ে ছয় বছর এই কাজটা করতে পেরেছি, সেজন্যে আমি কৃতজ্ঞ। "

ক্যামেরা হাতে কিশোর :
তবে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত জুয়েল সামাদের এই জার্নিটা খুব সহজ ছিল না।

নব্বুই এর দশকের শুরুতে ঢাকা শহরে ঝাঁক বেঁধে নানা জায়গায় ছুটে যেতে ফটো সাংবাদিকদের যে দল, তাদের মধ্যে ছিল ১৫ বছরের এক কিশোর। কিছুটা নেশায়, কিছুটা জীবিকার তাগিদে তাকে পথে নামতে হয়েছিল।

"আমার বাবা, দুই চাচা ছিলেন এই পেশায়। এটা যেন আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম আমার এডুকেশন সাপোর্ট করার জন্য। অন্য কিছু আর মাথায় আসেনি ফটোগ্রাফি ছাড়া। তখন আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। "

কাজ শুরু করেছিলেন ঢাকার মর্ণিং সান পত্রিকায়। কিছুদিন পর যোগ দেন দৈনিক জনকন্ঠে। সেখানে কাজ করেছেন পাঁচ বছরের বেশি।

"যে বয়সটা খেলাধুলার, সেই বয়সে আমি ঢুকে গেলাম কাজে। এক অর্থে এটা ছিল আমার জন্য ভালো সুযোগ। আবার অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। "

বড় বড় ফটো সাংবাদিকদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেতে অনেক সময় লেগেছে। টিটকারি শুনতে হয়েছে কাজ করতে গিয়ে।

"হাতে গোণা দু একজন লোক ছাড়া শেখানোর লোক খুব কম ছিল। উল্টো বাধা দেয়ার লোক অনেক ছিল। রাস্তায় যখন ছবি তুলতে যেতাম, তখন নানা কথা শুনতে হতো, বলতো, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সাংবাদিক বনে গেছে। "
কিন্তু সেসব তিনি গায়ে মাখেন নি।

আজকের সাফল্যের পর পেছন ফিরে দেখলে কি মনে হয়?

"আমার জন্য দরকার ছিল এই স্ট্রাগলটা। আমার জন্য এটা ফাউন্ডেশন হিসেবে কাজ করেছে। এখান থেকে আমি যা শিখেছি, তা আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে। "

২০০০ সালে ক্যারিয়ারে প্রথম বড় সুযোগ পান এএফপির ঢাকা অফিসে যোগ দেয়ার মাধ্যমে।

"এএফপিতে যোগ দেয়ার পর বুঝতে পারি যে ফটো জার্নালিজম মানে বাংলাদেশের গন্ডিতে আটকে থাকা নয়। সারা বিশ্বে কাজ করার সুযোগ আছে। তখন থেকেই আমার ইচ্ছে হয়, আরও অনেক ধরণের অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করার। এবং এএফপিতে জয়েন করার পর আমি সুযোগগুলো পাই। "

যুদ্ধ দিনের গল্প:
২০০১ সালে ভারতের গুজরাটের ভূমিকম্প ছিল জুয়েল সামাদের প্রথম ফরেন অ্যাসাইনমেন্ট। এরপর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বা অন্যান্য অঞ্চলে যত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলো কভার করার সুযোগ হয়েছে। আফগান এবং ইরাক যুদ্ধের সময় এএফপির হয়ে সেখানে গেছেন।
"আফগান এবং ইরাক যুদ্ধ আমার ক্যারিয়ারের বড় দুটি ঘটনা। এই দুটি যুদ্ধ আমাকে তৈরি করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে পাঠানো হয় আামাকে। আমি ছিলাম পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারে। যখন তালেবানের পতন হয়, তখন কাবুলে যাই। ভয়ের চেয়ে উত্তেজনাটাই বেশি কাজ করছিল এরকম একটা সুযোগ পেয়ে। "

"আফগানিস্তানে একটা ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। আমি এবং আমার এক অস্ট্রেলিয়ান কলিগ কাজ করছিলাম। আমেরিকান বি-ফিফটি-টু বিমান থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল পাহাড়ে। রাস্তার ধারে থেমে আমরা ছবি পাঠাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছনে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পেছনের গাড়িতে টরোন্টো স্টারের একজন সাংবাদিক এবং ফটো সাংবাদিক ছিল। তারা আসলে স্বামী-স্ত্রী। মহিলা সাংবাদিকের একটা পা গ্রেনেড হামলায় উড়ে গেছে। "

ঐ আহত সাংবাদিককে পরে জুয়েল সামাদ এবং তাঁর সহকর্মীই নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার লোকজন বললো, এখানে চিকিৎসা করা যাবে না। পরে তারা আবার গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যান নিকটবর্তী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে। সেখান থেকে কাবুলে এয়ার-লিফট করা হয় তাকে। ঐ মহিলা সাংবাদিকের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা।
মোট পাঁচ দফায় ইরাক যুদ্ধ কভার করেছেন জুয়েল সামাদ। সেখানেও ছিল অনেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

"যে পাঁচ বার ইরাক যুদ্ধ কভার করতে যাই তার মধ্যে তিনবারই মার্কিন বাহিনির সঙ্গে 'এমবেডেড' হয়ে। দুবার বাগদাদে স্বাধীনভাবে। "

টিকরিটে যে মার্কিন সেনাদল সাদ্দাম হোসেনকে তার গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আটক করে, জুয়েল সামাদ ছিলেন সেই সেনাদলের সঙ্গে এমবেডেড।

"ওরা বিভিন্ন রেইডে যাওয়ার সময় আমাদের সাথে নিয়ে যেত। কিন্তু যেদিনের অভিযানে সাদ্দাম হোসেন ধরা পড়ে, সেদিন আমাদের নেয়নি। পরের দিন আমাদের সেখানে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনি। সাদ্দাম হোসেন বাংকার টাইপের ছোট্ট একটা গর্তে লুকিয়ে থাকতেন। আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। "

সেনাবাহিনির সঙ্গে 'এমবেডেড' হয়ে কাজ করার সময় কয়েকবার হামলারও শিকার হয়েছেন।

"টিকরিটে একবার আমাদের কনভয়ের একটি গাড়িতে আইইডি হামলা হয়। আমি ছিলাম তিন গাড়ি পেছনে। আরেকবার আমাদের কনভয়ের ওপর গুলি চলে। তবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। "

তবে এত অভিজ্ঞতার মাঝে হোয়াইট হাউসের সাড়ে ছয় বছরের জীবনকেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় বলে মনে করেন জুয়েল সামাদ।

প্রতিদিন প্রেসিডেন্ট কোথায় যাচ্ছেন, কী কর্মসূচি, তার বিস্তারিত আমরা আগের রাতেই জানতে পারতাম। সেই অনুযায়ী তারা কাজের পরিকল্পনা করতাম। প্রেসিডেন্টের পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স কি আছে, কোথায় ছবি তোলা যাবে, কোথায় যাবে না, এসব আগে থেকে জানানো হতো আমাদের। "

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে যেদিন, সেদিন জুয়েল সামাদের দায়িত্ব পড়েছিল নিউইয়র্কে হিলারি ক্লিন্টনের সমাবেশ কভার করার।

হিলারি ক্লিনটনের জন্য স্টেজটি সাজানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের আদলে। হিলারি জিতবেন, এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি, তার একটি 'আইকনিক' ছবি তোলার জন্য দুদিন ধরে ক্যামেরা সেট করলেন তিনি।
কিন্তু ফল যখন ঘোষণা করা হলো, সব পরিকল্পনা পাল্টে গেল!

"যদি হিলারি জিততো, তাহলে হয়তো এটি একটি আইকনিক ছবি হতে পারতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাপের মাঝখানে হিলারি দাঁড়িয়ে তার বিজয়ের পর বক্তৃতা দিচ্ছেন, এরকম একটা ছবি। "

তবে তাই বলে খেদ নেই জুয়েল সামাদের। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা একটি সংস্থার আর্কাইভে আছে তার ছবি আছে প্রায় ৯০ হাজার। এএফপির হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন ফটোগ্রাফারেরই এত বেশি ছবি তাদের আর্কাইভে রাখা হয়েছে।

জুয়েল সামাদ এখন এএফপির নিউইয়র্ক ব্যুরোতে কাজ করেন। কিন্তু তারপরও বিশ্বের যেখানেই বড় কোন ঘটনা ঘটে, সেখানে পাঠানো হয় তাকে।

জুয়েল সামাদের স্ত্রী গোধুলি খানও ফটো সাংবাদিক। দুই কন্যা নিয়ে নিউইয়র্কে তাদের সংসার।

তার স্বপ্ন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করা।

"যদি সম্ভব হয় বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করতে চাই্। তারা অনেকেই বেশ ভালো করছেন। অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন। আমার কাজের অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। "


এবার এইচ১বি ভিসায় কাটছাঁট করছেন ট্রাম্প

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : স্বামী-স্ত্রীর এইচ১বি ভিসায় আরো কাটছাঁট করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  এতদিন স্বামী-স্ত্রীর এইচ১বি ভিসার সুবিধা নিয়ে যোগ্যতা থাকলে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা অত্যন্ত দক্ষতার কাজ করতে বা তার জন্য আবেদন করতে পারতেন।
এখন তা আর করতে দেওয়া হবে না বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হোয়াইট হাউস মনে করছে, এর ফলে মার্কিন নাগরিকদের অত্যন্ত দক্ষতার কাজ পাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। আগের প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে এই নিয়ম চালু হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বাই আমেরিকান, হায়ার আমেরিকান' নীতি ধাক্কা খাওয়ার ফলে এই সুবিধা শিগগিরই প্রত্যাহার করতে পারে সরকার।

এই ভিসায় ভারত এবং চীন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বেশি নাগরিক বাস করছেন।

ভিসা নিয়ে ফের কঠোর হচ্ছেন ট্রাম্প

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ফের কঠোর হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংস্থাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এইচ-১বি ভিসার ‌‘‌অপব্যবহার’‌ করে মার্কিনিদের ‘‌বঞ্চনা’‌ করা যাবে না। মার্কিন নাগরিক অধিকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টম হুইলার বলেছেন, ‘‌মার্কিন কর্মীদের উপেক্ষা করার জন্য সংস্থার কর্মকর্তারা যদি এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করেন, তাহলে সেটা বরদাস্ত করা হবে না। যদি দেখা যায়, কোনো সংস্থা যোগ্য মার্কিন কর্মীকে বঞ্চিত করেছেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।’‌

এদিকে পরবর্তী আর্থিক বছরের জন্য ১ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে এইচ-১বি ভিসার আবেদন গ্রহণ করতে শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। ঠিক তখনই দেশের সংস্থাগুলির উদ্দেশে এমনই সতর্কবাণী দিল ট্রাম্প প্রশাসন। সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রামারকে আর ‘‌বিশেষ পেশা’‌ বলে মনে করছে না আমেরিকা। এতদিন সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রামার হলেই এইচ-১বি ভিসা পাওয়া যেত। মার্চ মাসে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের এইচ–১বি ভিসার বিরোধিতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছিলেন মার্কিন নাগরিকদের একাংশ।

সমীক্ষা বলছে, প্রতিবছর বিদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী আসেন আমেরিকায়, যার মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এবং তাঁদের বেশির ভাগই তথ্য প্রযুক্তিবিদ। বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন আমেরিকায় ভারতীয় বা এশিয়ানদের তেমন কোনো বড় অসুবিধা ভোগ করতে হয়নি। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই এইচ-ওয়ান বি ভিসা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

মেধাবীদের মার্কিন ভিসা পেতে সমস্যা হবে না : ট্রাম্প

সিলিকন ভ্যালির চাপের মুখে ভিসা নীতি শিথিল করার আভাস দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তাদের এমনই আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো মনে করে, কোনও কর্মীকে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা প্রয়োজন, তা হলে এইচ-১-বি ভিসা পেতে সেই সব কর্মীর কোনও সমস্যা হবে না।

এই প্রথম এইচ১-বি ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে সিলিকন ভ্যালির প্রশ্নগুলোর সরাসরি জবাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টে। তাঁর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সেই আলাপচারিতা কিন্তু বেশ ইতিবাচকই হল।

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন নতুন আবিষ্কার বা উদ্ভাবনের জন্য যাদের প্রয়োজন, সব সময় আমেরিকা থেকেই তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে, সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তারা তেমনটা মনে করেন না। তাই ভারতসহ বিশ্বের অন্য নানা দেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রতি বছর নিয়োগ করে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো।

মার্কিন নতুন ভিসা নীতি যাতে সিলিকন ভ্যালিতে এই প্রতিভাবানদের প্রবেশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে ব্যবস্থা প্রশাসন করবে বলে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিভাবানদের ‘স্পেশ্যাল পিপল’ বা ‘বিশেষ ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এই ‘বিশেষ ব্যক্তিত্ব’দের কর্মী হিসেবে পেতে সিলিকন ভ্যালির কোনো সংস্থাই যাতে সমস্যায় না পড়ে তা সরকার নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংস্থাগুলোর উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য যে সব কর্মীকে বিদেশ থেকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, মার্কিন ভিসা পেতে তাদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ তা নিশ্চিত করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট এই বৈঠকে শুধু সমস্যাগুলোর কথা শোনার জন্য যাচ্ছেন। বৈঠকের পর অবশ্য জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শুধু শোনেননি, সিলিকন ভ্যালির উদ্বেগ নিরসনের আশ্বাসও দিয়ে এসেছেন।

সিলিকন ভ্যালিতে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ যাতে ফের সুবিধাজনক হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করা হবে বলে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়ে এসেছেন।


ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য্য ড. লিংকন এখন নিউইয়র্কে

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ঢাকার উত্তরাস্থ ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এ্যন্ড ইনফরমেশান সিস্টেম ইউনির্ভাসিটি) এর মাননীয় উপাচার্য্য ড. জাকারিয়া লিংকন এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবাসী লেখক খান শওকত রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নাট্যগ্রন্থখানি ইংরেজী সাহিত্য বিভাগে পাঠ্যপুস্তক করা হচ্ছে। ২০০২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে এটি উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত। এখানে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং ৭০ জন শিক্ষক রয়েছেন।

Picture

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক কোন নাট্যগ্রন্থ এই প্রথম বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক করা হচ্ছে। গ্রন্থটির ইংরেজী অনুবাদ করছেন ড. জাকারিয়া লিংকন। তিনি এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তার সঙ্গে যোগাযোগে আগ্রহীদেরকে ৯২৯-২১৮-৩৭৪৮ নাম্বারে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।


গ্রেটার খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

alt

গ্রেটার খুলনা সোসাইটিতে ২০১৮-২০১৯ মেয়াদের জন্য যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা হলেন- সভাপতি মুরারী মোহন দাস, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন, সহ-সভাপতি ইসমত জাহান পলি, শাহজাহান দুলাল, শেখ নওশাদ আকতার, এস এম সিরাজুল ইসলাম এবং শেখ হাসান আলী, সাধারণ সম্পাদক সরদার মুনীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার শাহিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার মুরাদ হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পপি চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা চৌধুরী, আইটি সম্পাদক শেখ আল আমিন. কার্যনির্বাহী কমিটিতে আছেন ফারুকুল ইসলাম, আনসার আলী, সৈয়দ এনায়েত আলী, মোস্তফা আল আমিন রাসেল, শেখ সেকান্দার আলী, শিমূল সাহা, মোসাম্মাৎ লিপি, জামাল উদ্দিন, শেখ নুহুল আলম, শেখ শহিদুল ইসলাম। গ্রেটার খুলনা সোসাইটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ডা: মাসুদ রহমান, সিনিয়র উপদেষ্টা: শাহ নেওয়াজ, এছাড়াও উপদেষ্টা কমিটিতে আছেন: আসাদুল ইসলাম, পারভীন সুলতানা রতœা, জিয়াউর রহমান লিটু, এবং ফজলে করিম।

Picture
৪ ডিসেম্বর খাবার বাড়ির পালকি সেন্টার হলে অনুষ্ঠিত সভায় নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক আগামী ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখ “গুলশান টেরেস”-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, এবং সে লক্ষ্যে অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য শেখ আনসার আলীকে আহবায়ক এবং মোস্তফা আল আমিন রাসেল ও খন্দকার মুরাদ হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপকমিটি গঠন করা হয়। সবশেষে  নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবি দ্বিবসের প্রথম প্রহরে প্রদীপ প্রজ্জলন

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসের প্রথম প্রহরে যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে শহীদদের  স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জলন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নুরুজ্জামান সরদার এবং সঞ্চালন করেন সাধারণ সম্পাদক সুবল দেবনাথ।

Picture

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র  আওয়ামী লীগের ভার প্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আঃ সামাদ আজাদ।

alt

প্রদীপ প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মমতাজ শাহনাজ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, সহ সভাপতি মোঃ কবির আলী, মোঃ জাহিদ মিয়া, মোঃ মাহবুবুর রহমান, অতুল প্রসাদ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম ইকবাল, আনিসুজ্জামান সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন রাকিব, সোহেল আহমেদ, নিউইয়র্ক স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী লিটন, সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আবেদীন আবেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুজন, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ প্রচার সম্পাদক সাদেক রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী সাদিক শিবলী এবং শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি আনিসুর রহমান সহ আওয়ামী পরিবারের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


২৭ বছরে নাবিক বাংলাদেশের উন্নয়নে মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ইসলামিক কমিউনিটি নাবিক ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশে আর্ত-মানবতার সেবায় কাজ করছে, গত ১০ই ডিসেম্বর রবিবার নিউইর্য়কের ওর্য়াল্ড ফেয়ার মেরিনা মিলনায়তনে নাবিকের ২৬ বছর পুর্তিতে নিউইর্য়ক বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাবিক প্রেসিডেন্ট ডা. পিয়ার এম ইনাম এর সভাপতীত্বে ও শাহিদ রহমান এর পরিচালনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ মদীনা মসজিদ ইমাম আবু সুফিয়ান। আর্তমানবতার সেবায় বাংলাদেশের পাশে থেকে নাবিক-কে সহযোগিতা করায় ম্যানহাটন মদীনা মসজিদ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, দারুস সালাম জামে মসজিদ, উডহেভেন জামে মসজিদ, বায়তুল গাফফার জামে মসজিদ, বেলিজেনো পার্টি হল, হামজা মসজিদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার ও ইসলামিক দাওয়াহ টেলিভিশন আইটিভি ইউএসএ-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা তুলে দেন প্রেসিডেন্ট ডা. পিয়ার এনাম ও ডা. আবু বকর আহমেদ।
সাম্প্রাতিককালে রোহিঙ্গা সাহায্যে নাবিক প্রায় তিন লক্ষাদিক ডলার স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সেবামূলক কাজে অনুদান ব্যয় করেছে বলে উপস্থাপক উল্লেখ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই আল মামুর স্কুল, রাইজিং স্টার স্কুল ও আইডিয়াল স্কুলের প্রধানদের হাতে বাৎসরিক স্কলারশীপ অর্থের নেক তুলে দেয়া হয়।

Picture
নাবিকের কর্মকান্ডের মধ্যে হাসপাতাল কার্যক্রম, নিরাপদ নারীকেন্দ্র, স্কুল, আত্ম কর্মসংস্থান, সুদ বিহীন বিনিয়োগ, সিডর এলাকায় পূর্ণবাসন, রোহিঙ্গা সাহায্যের তথ্যচিত্র ও বিবরণ তুলে ধরেন নাবিক প্রেসিডেন্ট ডাঃ পিয়ার এনাম।
সম্ভাবনাময় বাংলাদেশী শীর্ষক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ম্যাসাচুসেটস ইউনির্ভাসিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যাঞ্জেলর বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আতাউল কারিম। বক্তব্য রাখেন মুসলিম কম্যিউনিটি নেটওয়ার্ক প্রেসিডেন্ট ড. দেবী আল মুনতাসির। উৎসাহমূলক বক্তব্য ইসনা ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলতাফ হোসাইন ও দোয়া মুনাজাত করেন ইমাম শামসী আলী। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক চ্যাপ্টরের কর্নেল (অব:) মাহবুব, কামরুল আহসান, আকতাব আহমেদ, আব্দুল আজিজ ভূইয়া, মুহিবুর রহমান, মিসবাহ মাহমুদ ও এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ফজলে এলাহী।


মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে পূনর্বার বৈঠক

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির বিবৃতি

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ-নিউইয়র্ক : গত ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে পূনর্বার বৈঠকে বসে। এ বৈঠকে বিবৃতি প্রদান করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান। উল্লেখ্য গত ৬ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্টেটমেন্ট গ্রহণের ৩০ দিন পর নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। সে অনুযায়ী আজ জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি প্রদান করলেন। উল্লেখ্য মিয়ানমার বিষয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ ছিল নিরাপত্তা পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ যা সুনির্দিষ্টভাবে এই পরিষদ গৃহীত দলিল হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
নিরাপত্তা পরিষদের আজকের সভায় বক্তৃতা প্রদান করেন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজ্ প্রমীলা প্যাটেন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের উপর সংঘটিত ভয়াবহ যৌন সহিংসতার যে বাস্তব চিত্র নিজ চোখে দেখে এসেছেন এবং নির্যাতিত নারী ও শিশুদের যে বক্তব্য শুনেছেন তা এ সভায় তুলে ধরেন। খবর বাপসনিঊজ।

মিজ্ প্যাটেন বলেন, “যারা এখনও যৌন সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন এবং যারা নিষ্ঠুরতম এই যৌন সহিংসতার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছেন, তাদের সকলেই আমাকে বলেছেন, নারকীয়ভাবে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, জনসম্মুখে বিবস্ত্রকরণ এবং সেনাক্যাম্পে আটক রেখে দিনের পর দিন রোহিঙ্গা নারীদের যৌনদাসত্ব গ্রহণে বাধ্য করার মতো জঘণ্য কাজ গুলো করেছে”। তিনি সহিংসতার শিকার এমন অনেক নারীর উদাহরণ দেন যাদের কেউ কেউ টানা ৪৫ দিন সেনা ক্যাম্পে ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক মেয়েকে তার স্বামী অথবা পিতার সামনে উলঙ্গ করে ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেক মায়ের সন্তানদের গ্রামের জলকুপে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। শিশুকে কেড়ে নিয়ে শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ধর্ষণ শেষে শিশুটিকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এমনই সব মর্মস্পর্শী বর্ণনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে মিজ্ প্যাটেন সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ে এই সহিংসতার সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানান।
আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান তাঁর বক্তব্যে মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হল: ১) রাখাইন স্টেটের অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, ২) প্রত্যাবাসন হতে হবে উচ্ছেদকৃতদের মুল ভূমিতে বা পছন্দনীয় কাছাকাছি কোন স্থানে, ৩) অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা থাকতে হবে যাতে তারা জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনগুলো সংস্থান করতে পারে, ৪) প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদন্ড উদারভিত্তিক হতে হবে, ৫) সকল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি ডিসেম্বর মাসের সভাপতি জাপানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিষদটির সদস্যদেশ সমূহের বাইরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেও বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ১০০-৪০০ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি”। তিনি সম্প্রতি উত্তর ও মধ্য রাখাইন প্রদেশের কোন কোন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করে বলেন, এ চুক্তির শর্তানুযায়ী শীঘ্রই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে এবং মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন এ দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কেবল প্রত্যাবাসনের কাজটি করা সম্ভব হতে পারে কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক দূর্দশার যে মূল কারণ তা দূর করতে এতদসংশ্লিষ্ট বহুবিধ বিষয় ও অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহাযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ একান্তভাবে প্রয়োজন, আর তা করতে হবে অসহায় রোহিঙ্গাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ তাঁর বক্তব্যে রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত অসহায় নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান, সহিংসতার নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্ত ও বিচার, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তন এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে একত্রে বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরির উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
নিরপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ এ সভায় বক্তব্য প্রধান করেন। তারা রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বরাবরের মতো বিশ্ব সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির সাফল্য কামনা করেন। উল্লেখ্য সভার সকলেই জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজ্ প্রমীলা প্যাটেনের মর্মস্পর্শী বর্ণনা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
    উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একটি রেজুলেশন গ্রহণ করে। তৃতীয় কমিটি গৃহীত এই রেজুলেশন অচিরেই সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া গত ৫ ডিসেম্বর জেনেভাস্থ মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতির উপর একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়।


আমেরিকার থ্যাংক্স গিভিং ডে উদযাপন করেছে বৃন্দাবন কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা ও ব্যপক উপস্থিতিতে থ্যাংকস গিভিং ডে উদযাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রস্থ হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বৃন্দাবন কলেজের প্রাক্তন  ছাত্র/ছাত্রীর সামনে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষন বিশাল দুটি টার্কি কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষনা করেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা ইব্রাহিম খলিল বারভূইয়া রিজু, সাধারণ সম্পাদক জায়েদুল মুহিত খান। থ্যাংক গিভিং ডে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শাহ  সাদেক মিয়া এবং সদস্য সচিব আবু সাইদ  চৌধুরী কুটি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজের প্রবীন ছাত্র সাবেক ব্যাংকার নারায়ন চন্দ্র দেব, সংগঠনের উপদেষ্টা  এটর্নী মঈন চৌধুরী, উপদেষ্টা মুজাহিদ আনসারী, ব্যাংকার  সৈয়দ মজিবুর রহমান প্রমুখ।খবর বাপসনিঊজ।


নিজেদের সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমেরিকার মূল ধারার সংস্কৃতির সামনে নিজেদের মানিয়ে নেয়া এবং নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়া দেয়ার জন্য সংগঠনটি প্রতি বছরই থ্যাংকস গিভিং ডে উপলক্ষে ফ্যামিলি ডে ও হবিগঞ্জ নাইট উদযাপন করে আসছে। অনুষ্ঠানটি দিনে দিনে সকল প্রবাসী ও মূলধারার মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কবিতা আবৃতি, কৌতুক পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী কৃষ্ণা তিথি।


জ্যাকসন হাইটসের একটি হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে টার্কির মাংশসহ নৈশ ভোজে আপ্যায়িত করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদ উদ্দন, নাজিম উদ্দিন,  আলমগীর মিয়া, আব্দুর রহমান, লিটন চৌধুরী, মিয়া মোঃ আছকির, সামছুল ইসলাম শামীম, মোঃ আবিদ, আবদুল আজিজ, মোস্তফা কামাল সংগ্রাম, বিষ্ণু পদ সরকার, গাফ্ফার চৌধুরী, আব্দুল ওয়াহেদ, ফয়সাল আহমেদ, শিমুল হাসান, মঞ্জুর চৌধুরী, রুহুল আমিন, প্রফেসর ইকবাল, মীর সোহেল, সুকান্ত হরে, সুভাস , মাসুম, হাসান, মোশারফ, কালাম, নোভেল আমিন প্রমুখ।


বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্পদ পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ১১জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিঊজ:বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই বানোয়াট বক্তব্য প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ১১জন যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক । নেতৃবৃন্দরা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের ভাবমূর্তি জনগনের কাছে নষ্ট করতে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই শেখ হাসিনা ডিজিটাল অসত্য ও মিথ্যাচার করছেন প্রতিনিয়ত।  

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়ার নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নজীরবিহীন দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা  মামলা ও প্রত্যাহারের দাবি জানান ১১ জন সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ।

বিবৃতি প্রদানকারী নেতৃবৃন্দরা হলেন,আনোয়ারুল ইসলাম , হাফিজ খান সোহায়েল, কাজী আজম, সৈয়দ এম রেজা, গোলাম ফারুক শাহীন, জহিরুল ইসলাম মোল্লা, শাহ আলম,  সৈয়দুল হক, ফিরোজ আহমেদ, বাকির আজাদ ও মোসফিকুর রহমান।